• ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২, বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Ashish Lal Singh

দেশ

বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের আঁতুরঘর ছিল শচীন্দ্রলালের বাড়ি, সেখানেই থাকতেন বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের আঁতুরঘর ছিল ত্রিপুরা কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা শচীন্দ্রলাল সিংয়ের বাড়ি, অরুন্ধতি নগরের বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমান এবং রাতে শচীনবাবুর সরকারি বাসভবনে থাকতেন। মুজিব ও তাঁর সহকারীদের রান্না করে খাওয়াতেন শচীন্দ্রলালে-র ভগিনী হেমাঙ্গিনী সিং। শচীন্দ্রলাল এখনও ত্রিপুরার মানুষের মনে গেঁথে রয়েছেন। উন্নয়নের কান্ডারী টানা ২৪ বছরের মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিং জন্মসুত্রে ভিন রাজ্যের হলেও, কার্যত তিনি ত্রিপুরার ভূমিপুত্রই। ত্রিপুরার রূপকার বললে অত্য়ুক্তি হবে না।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নায়ক মুজিবর রহমান। যিনি বঙ্গবন্ধু নামে অধীক পরিচিত। আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকাও দেশবাসী অবগত রয়েছেন। পাকিস্তান ভেঙে নতুন দেশ গঠন না হলে এখন হয়তো অন্য ইতিহাস লেখা হত। কিন্তু একজনের কথা দেশবাসীকে স্মরণ করতেই হবে, তিনি হলেন ত্রিপুরার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী তথা টানা ২৪ বছর প্রশাসনিক প্রধান শচীন্দ্রলাল সিং। স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় মুজিবর রহমানের এদেশের ঘর ছিল শচীন্দ্রলালবাবুর বাড়ি। সেখানে থেকে যাবতীয় পরকল্পনা রচিত হত। তাছাড়া ত্রিপুরার উন্নয়নের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত শচীন্দ্রলাল সিং।স্বাধীনতা সংগ্রামী হওয়ার কারণে শচীন্দ্রলাল সিং ১৭ বছর ব্রিটিশ জেলে কাটিয়েছেন। ভারত সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশেষ ভুমিকার জন্য ৯৭ জন স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম ঘোষণা করেছে। সেই তালিকায় ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ, অতুল্য ঘোষ, গোপিনাথ বড়দলুই, হরেকৃষ্ণ মহাতাব, প্রফুল্ল্য সেনেদের সাথে শচীন্দ্রলাল সিংও ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী পেনসান কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।শচীন্দ্রলাল সিং যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন ত্রিগুনা সেনকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছিলেন ত্রিপুরা থেকে। ওনার সঙ্গে ত্রিগুনা সেনের কথা ছিল কেন্দ্রে মন্ত্রী হলে ওএনজিসি দেবেন। ত্রিগুনা সেনের ঠিকানা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি। ওই ডিমান্ড ফুলফিল করেছিলেন ত্রিগুনা সেন। শচীন্দ্রলাল সিংয়ের আমলেই রাজ্যে গোবিন্দ বল্লভ হাসপাতাল হয়েছিল। তারপর ত্রিপুরায় বড় কোনও হাসপাতাল হয়নি। পাওয়ার প্রোজেক্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কী হয়নি তখন পরশি রাজ্যে।বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় সব থেকে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন শচীন্দ্রলাল সিং। বাংলাদেশ স্বাধীন হয় তখন জেল থেকে বেরিয়ে শচীন্দ্রলাল সিংকে বাংলাদেশের ঢাকায় নিয়ে যান মুজিবর রহমান। সেখানে রেড কার্পেটে তাঁকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। মুজিবর রহমান শচীনবাবুর জন্য চেয়ার ছেড়ে দেন। তখন শচীনবাবু বলেছিলেন, এটা হয় না, আপনি বসুন। শচীন্দ্রলাল বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্য়তম হোতা। মুজিবর রহমানের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছেন। শচীন্দ্রলালবাবুর ছোট ছেলে ঢাকায় গিয়েছিলেন। বাবার সৌজন্যে তাঁকে সোনার নৌকা দিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। একসময় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল ত্রিপুরা, রাজ্য গঠন করার ক্ষেত্রেও অগ্রনী ভূমিকা ছিল শচীন্দ্রলাল সিংয়ের। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে দাবি করেছিলেন রেললাইন চাই, ধর্মনগর অবধি সেই রেললাইন স্থাপিত হয়। ১৯৭৭ এ যখন তিনি সাংসদ হন সে সময় তৎকালীন রেলমন্ত্রী মধু দণ্ডবতকে অনশন করার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন ধর্মনগর থেকে আগরতলা রেললাইন করতে হবে। যেদিন সংসদ ভবনের সামনে অনশনে বসার কথা, সেদিন সকালে মধু দন্ডবতে তাঁর দিল্লী বাসভবনে এসে সরকারের অর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন আপাতত কুমারঘাট অবধি রেললাইন দেওয়া হচ্ছে, পড়ে ওটা বর্ধিত করা হবে।শচীন্দ্রলাল সিং খেলার প্রসারের জন্য স্টেডিয়াম করেছিলেন। উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র। মহারাণী কাঞ্চনপ্রভাদেবী বনমালীপুরে একটি বাড়ি দিয়েছিলেন ত্রিপুরার জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শচীনবাবুকে বসবাস করার জন্য। ত্রিপুরার রূপকার শচীন্দ্রলাল খোঁজ নিয়ে জানলেন ত্রিপুরাতে কোনও মহিলা কলেজ নেই। তিনি মহিলাদের শিক্ষাপ্রসারের জন্য সেই বাড়ি দান করে দেন কলেজ করার জন্য। এখন সেখানে স্থাপিত হয়েছে আগরতলা উইমেন্স কলেজ। শচীনবাবুর প্রধান সহযোগীদের মধ্যে উল্লেখ্যগয় হলেন তসলাম ফা, ওয়াজেদ আলি, মনসুর আলি, চক্র ফা, বুলু কুকি, কৃষ্ণদাস ভট্টাচার্য। এই কৃষ্ণদাস তাঁর মন্ত্রী সভায় অর্থ মন্ত্রী ছিলেন।২০১২-এর ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু অন্তর্জাতিক সন্মেলন কেন্দ্র, ঢাকাতে তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনন্যসাধারণ অবদানের জন্য বাঙালি জাতির শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ মরণোত্তর মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সন্মাননা তাঁকে প্রদান করেন।মুজিবর রহমান মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেই থাকতেন লালবাহাদুর শাস্ত্রী, জহরলাল নেহরুর সময় থেকেই। ১৯৭১ ১লা নভেম্বর সারাদিন বিভিন্ন রিফিউজি ক্যাম্প ঘুরে দেখেন সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ও শচীন্দ্রলাল সিংকে নিয়ে। ফিরে এসে আগরতলা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে কথাবার্তা চলাকালীন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, আপনি সীমান্ত খুলে দিয়েছেন, অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য করছেন, আপনি তো দেশকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। ইন্দিরাকে ত্রিপুরার রূপকার শচীন্দ্রলাল জবাব দেন, আমি যা করছি তা দেশের মঙ্গলের জন্যই করেছি এবং আপনার জন্যই করছি। আমি একটা ছোট্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সমগ্র বিশ্ব আপনার নামই করবে, আমার নই। ইতিহাস আপনাকেই স্মরণ করবে। আরও বলেন, আমি আপনার বাবার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আপনি আমাকে রাজনীতি শেখাবেন না। একটা ছোট্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কথা হজম না করতে পেরে দিল্লী ফিরেই ১লা নভেম্বর ১৯৭১ রাতে ত্রিপুরাতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করলেন ইন্দিরা। ভেঙে দিলেন কংগ্রেসের-ই সংখ্যাগড়িষ্ট সরকার। তবুও দমলেন না দেশ তথা ত্রিপুরার প্রতি দায়বদ্ধ শচীন্দ্রলাল সিং, তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে ফোন করে বলেন Imposition is a great sin। সেই রাতেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী বাসভবন ত্যাগ করে পৈতৃক ভিটে জয়নগরের বাসভবনে ফিরে যান। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন দাপুটে ইন্দিরা গান্ধীকে। তখনও তাঁর পাশে ছিলেন ত্রিপুরার আপামর সাধারণ মানুষ। অনবরত সমর্থন জুগিয়ে গিয়েছেন শচীনবাবুকে। নির্দল প্রার্থী হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন শচীন্দ্রলাল।জাতপাতের উর্দ্ধে রাজনীতি করতেন শচীন্দ্রলাল সিং। মানুষকে মানুষ ভাবতেন। সাধারণের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন অনায়াসে। এই দেশে এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এখন অমিল। ত্রিপুরার আদিবাসীরা মনে করতে শচীন্দ্রনাথবাবু তাঁদের ঘরের লোক। আদিবাসী সমাজে তাঁর নাম ফাটা ছিলুম তার মানে ছেঁড়া কাপড়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে এতটাই আপন ছিলেন তিনি। কাছে টেনে নিয়েছিলেন মনিপুরি, সংখ্যালঘুসহ সকলকেই। কোনও ভেদাভেদ তাঁকে কখনও স্পর্শ করতে পারেননি। ২০০০ সালে ইহলোক ত্যাগ করলেও ত্রিপুরার মানুষ ভোলেনি শচীন্দ্রলাল সিংকে। এখনও তাঁর জন্মদিনের উৎসবে হাজির হন অগনিত মানুষ।শচীন্দ্রলালবাবুর বড় ছেলে আশিসলাল সিং ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। এখন দলের কোর কমিটির সদস্য। তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের কাছেও আশিসবাবু কাছের মানুষ, মাটির মানুষ। পাহাড় থেকে সমতল হোক রাত-বিরেতে কেউ বিপদে পড়লেই পাশে থাকেন শচীন্দ্রপুত্র আশিসলাল। তিনিও মহান পিতার মতোই কোনও জাতিগত ভেদাভেদে বিশ্বাস করেন না। তাঁর ভাবনাতেও রয়েছে বাবার মতোই ত্রিপুরার উন্নয়ন।

এপ্রিল ২৫, ২০২২
রাজনীতি

কাশীনাথ মিশ্রের আদর্শ মেনে চলার আহ্বান আশিসলালের

বাঁকুড়া বিধানসভা থেকে পাঁচবার বিধায়ক হয়েছিলেন। কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন কাশীনাথ মিশ্র। ২০১২-এর ১০ এপ্রিল এসএসকেএম হাসপাতালে প্রয়াণ হয়েছিল এই জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের। যিনি নিয়মিত বিধানসভার অধিবেশনে হাজির হতেন। সাধারণের জন্য রাজনীতি করতেন। রবিবার তাঁর প্রয়াণ দিবসে একাধিক কর্মসূচি পালিত হয় বাঁকুড়ায়। সমস্ত অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।রবিবার সকালে কাশীনাথ মিশ্রের দশম মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তারপর তাঁর স্মরণে ছিল রক্তদান শিবির। এই অনুষ্ঠানে মূল পৃষ্ঠপোষক ছিলেন প্রয়াত কাশিনাথ মিশ্রের স্ত্রী মিনতি মিশ্র। রবীন্দ্র ভবনে ওই অকৃতদার নেতার স্মৃতিচারণা করেন প্রাক্তন সাংসদ অভিজিত মুখোপাধ্যায়, ত্রিপুরা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি আশিসলাল সিং, রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি, জেলা নেতা অরূপ চক্রবর্তী ও অরূপ খাঁ, অলোক মুখোপাধ্যায়, তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সাংগঠনিক সভাপতি দিব্যেন্দু সিনহা মহাপাত্র, সমাজসেবী অচিন্ত্য ঘোষ, লড়াকু নেত্রী বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার মহিলা সভানেত্রী মৌ সেনগুপ্ত, ৬ বারের কাউন্সিলর রাখী রজক, মূল আয়োজক রাহুল সেন, জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধক্ষ শিবাজী ব্যানার্জী, প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য নেতা পলাশ সাধুখাঁ।ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির সদস্য আশিসলাল সিং বলেন, কাশীনাথ মিশ্রকে আমরা ভুলতে পারব না। তাঁর কর্মপদ্ধতি থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে। তাঁর আদর্শে আমরা চলতে চেষ্টা করব। তাঁর সম্বন্ধে জানতে পারলে আগামী প্রজন্মের অনেক কাজে আসবে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, কাশীনাথ মিশ্রের সঙ্গে বিরোধী দলের নেতৃত্বের সঙ্গেও সদ্ভাব ছিল। বিধানসভায় তাঁর অংশগ্রহণ থেকে অনেকেই শিক্ষা নিতে পারেন।

এপ্রিল ১০, ২০২২
দেশ

থমকে ত্রিপুরা তৃণমূলের গতি, বিধানসভা ভোটের আগে অন্য দলে ঝুঁকছে দলের বড় অংশ

বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে রোড শো করার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের ত্রিপুরা, মেঘালয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ের কথা বলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে ২৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। যদিও কোনও আসনেই জয় পায়নি ঘাসফুল শিবির। এবার লক্ষ্য উত্তর পূর্ব ভারত। কিন্তু ত্রিপুরার সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে আশাহত সেখানকার তৃণমূলের বড় অংশ।তিন দিন আগে ত্রিপুরায় তৃণমূলের মহামিছিলে তেমন জনসমাগম হয়নি বলেই ওই অংশ দাবি করেছে। ওই মিছিলে অংশ নেননি ত্রিপুরা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি তথা কোর কমিটির সদস্য আশিসলাল সিং, প্রাক্তন বিধায়ক আশিস দাস, দলের সংখ্যালঘু নেতা জহিরুদ্দিন শেখসহ নেতৃত্বের বড় অংশ। কয়েকদিন আগেই ত্রিপুরায় তৃণমূলের একমাত্র কাউন্সিলর যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামি ২০২৩-এ বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে সংগঠনের এমন দশা হলে লড়াই তো দূরের কথা তৃণমূল হালে পানি পাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু বাংলায় বিপুল জয়ের পর ত্রিপুরা অভিযানে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বহু মানুষ তৃণমূলে যোগও দিয়েছিল। কিন্তু কী এমন হল যে দলের বিস্তার না হয়ে, ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে কার্যকলাপ? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে।ত্রিপুরা তৃণমূলের একাংশের দাবি, সম্মান না পেয়ে দল ছেড়েছেন একমাত্র কাউন্সিলর সুমন পাল। এমনকী দলের সংগঠন বৃদ্ধি করতে গিয়ে বিজেপির হাতে যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের পাশেও সেভাবে নেতৃত্ব দাঁড়ায়নি বলেই তাঁদের অভিযোগ। ত্রিপুরার ৮ জেলার মধ্যে ৪ জেলায় দল আশিসলাল সিংকে দায়িত্ব দিয়েছিল। অথচ মারধর খেয়ে দিল্লিতে চিকিৎসা করতে চলে যান তিনি। তাঁকেও সামান্য মর্যাদা দেওয়া হয়নি বলে দলের একাংশে অভিযোগ।জানা গিয়েছে, ২১ দিনের নোটিশে ২০১৪-এ ত্রিপুরার দুটি লোকসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেদিন দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন আশিসলাল সিং। ত্রিপুরা পশ্চিম কেন্দ্রে ১ লক্ষ ১৭ হাজারের বেশি ভোট পায় তৃণমূল প্রার্থী রতন চক্রবর্তী। ত্রিপুরা পূর্বে ভৃগুরাম রিয়াং ৭৭ হাজারের বেশি ভোট পায়। দুটি আসনেই তৃণমূল ছিল তৃতীয়, তারপরে চতুর্থ স্থানে ছিল বিজেপি প্রার্থী। ২০১৭-এ ত্রিপুরা তৃণমূলের সভাপতি করা হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিং-পুত্র আশিসলালকে। ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে জোট গড়ে ত্রিপুরায় প্রার্থী দেয় তৃণমূল। সব আসনেই হেরে যায় তৃণমূল।দলের বিক্ষুব্ধ অংশের বক্তব্য, দলবদলুরা ত্রিপুরায় তৃণমূলের দায়িত্ব নেওয়ায় সংগঠন তলানিতে পৌঁছেছে। দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বিজেপি থেকে আসা প্রাক্তন বিধায়ক আশিস দাস সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, দল তাঁকে ত্রিপুরায় দায়িত্ব দিলে বিজেপি-সিপিএমকে টেক্কা দেবে তৃণমূল। পাঁচ-পাঁচবার বিজেপি আশিসলাল সিংয়ের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ। তিনি আগেই জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। আশিসবাবুর দাবি, কোনও উপজাতিকে ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। তাহলেই বাজিমাত করতে পারবে দল। তিনি চান ত্রিপুরা তৃণমূলের হাল ধরুক আশিস দাস। রেললাইনের পথ ঘুরিয়ে জনজাতিদের উচ্ছেদ রুখে ছিলেন আশিসলাল। সিপিএম সরকার রেললাইনের ম্যাপিং করেছিল। কিন্তু তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় ১০ হাজার জনজাতিকে উচ্ছেদ হতে হয়নি। সেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন শচীন্দ্রলাল-পুত্র। মাছমারায় বাঁশের সেতু লোহার সেতু হয়েছে, তাঁরই উদ্যোগে হাসপাতাল হয়েছে।এই মুহূর্তে ত্রিপুরার পাহাড়ী এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ত্রিপ্রা মথা। তবে সমতলেও প্রভাব বাড়ছে দুবছর আগে তৈরি হওয়া এই দলের। সূত্রের খবর, শচীন্দ্রলাল-কন্যা নন্দিতা সিং, শ্যামাচরণ ত্রিপুরার মেয়ে অদিতি ত্রিপুরা, শচীন্দ্রলাল সিংয়ের মন্ত্রীসভার প্রাক্তন জনপ্রিয় মন্ত্রী তসলমফা ওরফে রাজপ্রসাদ চৌধুরী-র পুত্র ভৃগুরাম রিয়াং ত্রিপ্রা মাথায় যোগ দিতে পারেন। সূত্রের খবর, তৃণমূলে বসে যাওয়া নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ত্রিপ্রা মথার সঙ্গে। বছর গড়ালেই বিধানসভা ভোট। তাই অনেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, আশিসলাল ব্যক্তিগত ভাবে দল ছাড়তে চাইছেন না। কিন্তু কর্মীরা ক্ষিপ্ত। সংখ্যালঘু ও পাহাড়ের তৃণমূলীরা কি সিদ্ধান্ত নেবে তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় আছে। তাঁরা মনে করছে, এমন চলতে থাকলে আশিসবাবুও তাঁদের পথ ধরতে পারেন।ত্রিপুরার পাহাড়ের কোনায় কোনায় ঘাসফুলের পতাকা উড়েছে। এবার তা বন্ধ হতে বসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল কর্মী মুজিবর মারা গিয়েছেন। তাঁকে জখম অবস্থায় নেতৃত্ব ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। মুজিব ও তাঁর স্ত্রী সেদিন টোটো করে বাড়ি যায়। জানা গিয়েছে, মামন খানকে বেধরক মারধর করা হয়েছিল। এসএসকেএম থেকে ফিরে আসছে তাঁরও খোঁজ নেয় না দল। ত্রিপুরার নন্দীগ্রামে দলের পতাকা উচিঁয়ে রেখেছে বেচারাম দাস। তাঁকে ১৫ অগাস্ট বেধরক মারধর হয়। তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেয়, অথচ দল খবরই নেয়নি বলে অভিযোগ। আশিসলাল সিং বিজেপির কাছে মার খেল, ত্রিপুরা তৃণমূল নাকি তখনও চুপ ছিল। তৃণমূলের মহিলা নেতৃত্বও নিগৃহীত হয়েছেন। অমরপুর পাহাড়ের জঙ্গলে বাচ্চা কোলে অবস্থায় এক মহিলাকে গুলি মারা হয়েছিল। সেখানে কর্মীদের নিয়ে রাতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন আশিসলাল। তাছাড়া খুমলুঙে মদ্য়পরা ছাত্রদের ব্যাপক মারধর করেছিল। খুমলুঙ জ্বলছিল। অশান্ত খুমলুঙে গিয়েছিলেন আশিসবাবু। যে পার্কে সেদিন ঘটনা ঘটেছিল তা দাবি জানিয়ে বন্ধ করিয়েছিলেন তিনি। সেদিনও আগরতলা শহর থেকে কেউ যায়নি।কার্যত ত্রিপুরার দলের কর্মীরা নেতৃত্বের ওপর ভরসা হারাচ্ছে বলেই খবর। দলের ওই অংশের বক্তব্য, পার্টি অফিস হয়নি বরং বাড়িতে বাড়িতে দলের অফিস গড়ে উঠছে। সেসব জায়গায় অনেকে যেতেও পারছেন না। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের এমন দশা থাকলে ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় কোনও আশা না করাই ভাল। অল্প সংখ্যক ভোট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ঘাসফুল শিবিরকে।

এপ্রিল ০৯, ২০২২

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

ব্রিগেডের পরই কি ভোটের দিন ঘোষণা? বড় ইঙ্গিত দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন কবে হবে এবং কবে ফল ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। নানা মহল থেকে নানা ধরনের জল্পনা শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই ভোট ঘোষণার সময় নিয়ে একটি ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মঙ্গলবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে ধর্মতলায় চলা ধরনা কর্মসূচি তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বিজেপিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির ইঙ্গিতেই কাজ করছে।এই প্রসঙ্গেই কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ব্রিগেডের সভার পর যদি ভোটের দিন ঘোষণা করা হয়, তাতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি দাবি করেন, এর আগেও এমন হয়েছে যে ব্রিগেডে সভা করার পরই ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী শনিবার চৌদ্দ মার্চ ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সভার পরই নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনকে ভর্ৎসনা করেছে আদালত। তাঁর কথায়, সব কথা লিখিত নির্দেশে থাকে না, অনেক বিষয় শুনানির ভিডিও দেখলে বোঝা যাবে।বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রসঙ্গেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পঁচিশ তারিখ এই বিষয়ে আবার শুনানি রয়েছে। তিনি বলেন, ভোটের দিন যদি পনেরো বা ষোলো তারিখে ঘোষণা করা হয়, তাতেও চিন্তার কিছু নেই। কারণ এই পুরো বিষয়টি তারা নজরে রাখছেন এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বাংলার ভোটের দিন ঘোষণা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্চ ১০, ২০২৬
রাজনীতি

একদা কমিউনিষ্ট ঘাঁটিতে টানা তিনবার জিতেও নিশ্চিন্ত নয় তৃণমূল! বর্ধমান দক্ষিণে এবার কি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই?

দক্ষিণ বর্ধমান বরাবর কমিউনিস্টদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই কেন্দ্র থেকে প্রথম দুটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী। তখন তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন অবিভক্ত কমিউনিষ্ট পার্টি তথা সিপিআই থেকে। তারপর এই আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী বর্ধমানের মহারানী রাধারাণী মহতাব জয়ী হয়েছিলেন। তার আগের নির্বাচনে বিনয় চৌধুরী পরাজিত করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজাকে। সেই সম্মান পুনরুদ্ধার করতে কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছিলেন মহারাণী। তার পরে শুধু ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস জয় পেয়েছিল। এখানে থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাছাড়া ২০০৬ পর্যন্ত সিপিএম এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের ভোটে তৃণমূল প্রার্থী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ব্যাপক ভোটের ব্য়বধানে পরাজিত করেন রাজ্যের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনকে। প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন নিরুপম সেন। ২০১৬-তেও জয় পায় তৃণমূল। তখনও এই কেন্দ্রে প্রধান বিরোধী দল ছিল সিপিএম। রবিবঞ্জন চট্টোপাধ্যায় প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্য়বধানে সিপিএম প্রার্থী আইনুল হককে পরাজিত করেন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ নন্দীকে পরাজিত করেন তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস। তবে জয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি প্রায় অর্ধেক ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে থাকে তৃণমূলের থেকে। এই নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী পৃথা তা প্রায় ২৩ হাজারের ওপর ভোট পেয়েছিল।বর্ধমান পুরসভা এলাকা নিয়েই বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। তবে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে কি হতে চলেছে তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই শহরজুড়ে। প্রথমত বিধায়ক খোকন দাসই টিকিট পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। বিধায়ক অনুগামীরা জোরের সঙ্গে বলছেন টিকিট খোকন দাসই পাচ্ছেন। শহরে এক যুব নেতার নাম ভাসিয়ে দেওয়া হলেও বর্ধমান দক্ষিণে আদৌ সে টিকিট পাবেন কিনা তা নিয়ে কম জল্পনা নেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ক্রীড়া অনুষ্ঠান সবেই জোরদার প্রতিযোগিতা চলছে তৃণমূলের দুই তরফ থেকেই। অনেকের আবার বক্তব্য, নেপোয় দই মেরে দেবে না তো!তৃণমূল যাকেই প্রার্থী করুক এবার জোরদার লড়াই হবে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে। এদিকে তৃণমূলের একটা সূত্রের দাবি, শহরে দলে ঘরের মধ্যে ঘর তৈরি হয়েছে। সেই ঘরও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই সেই অংশের দাবি। তাঁদের ভূমিকা জয়-পরাজয়ে অনেকটা নির্ভর করবে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। পাশাপাশি যে ভাবে পর পর নির্বাচনে ওয়ার্ডগুলিতে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল তাতে সংশয় বেড়েছে। মোদ্দা কথা, পর পর তিনবার জয় পেলেও এবার বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে নেক-টু-নেক ফাইট হবার সম্ভাবনা প্রবল। একতরফা জয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ১০, ২০২৬
কলকাতা

ধরনা শেষ করেই প্রাক্তন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা মমতার! কেন্দ্রকে নিশানা করে বড় মন্তব্য

ধর্মতলায় একশো এক ঘণ্টা ধরে চলা ধরনা কর্মসূচি শেষ করার পরেই প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে রাজ্য সরকারের অতিথিশালায় রয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্মতলা থেকে সোজা সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী। দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হন তিনি। সেই সময় আবারও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা যায় তাঁকে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যেহেতু প্রাক্তন রাজ্যপাল পরের দিন রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। তিনি জানান, আনন্দ বোসের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর এবং তাঁদের মধ্যে ভালো সম্পর্কও ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভোটের আগে আচমকা তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেন, নিজের মনের কথাও আনন্দ বোসকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁকে আবার বাংলায় আসার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।এই সাক্ষাৎ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তাও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি প্রাক্তন রাজ্যপাল আনন্দ বোসের প্রশংসা করেন। মমতা লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল ডক্টর সিভি আনন্দ বোস রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ধর্মতলায় পাঁচ দিনের ধরনা কর্মসূচি শেষ করার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, আনন্দ বোস অত্যন্ত পণ্ডিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় রাজ্যের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক নানা বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ হয়েছিল। সেই আলাপচারিতা তাঁর কাছে সবসময় মূল্যবান হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন মমতা।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আনন্দ বোসের আগামী দিনের সমস্ত উদ্যোগ ও দায়িত্বের জন্য তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর অগাধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের পথচলায় আরও বড় সাফল্য এনে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মার্চ ১০, ২০২৬
দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন, তবু বাংলাদেশের পাশে ভারত! পাঁচ হাজার টন ডিজেল পাঠানোর বড় সিদ্ধান্ত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। তার জেরে গোটা বিশ্বেই জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা বাড়ছে। ভারতেও গ্যাস ও জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল ভারত। দুঃসময়ে প্রতিবেশী দেশকে সাহায্য করতে পাঁচ হাজার টন ডিজেল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব পাইপলাইনের মাধ্যমে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল তিনটে কুড়ি মিনিট নাগাদ ভারতের অসমের নুমালিগড় তৈলশোধনাগার থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠানো এই জ্বালানি প্রায় চুয়াল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পর্বতপুর ডিপোতে পৌঁছে যাবে বলে জানা গেছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার এই সময়ে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এই পাইপলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি জ্বালানি আসায় পরিবহন খরচ এবং সময় দুটোই অনেক কমে যায়।কিছুদিন আগেই বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় ভারতের পক্ষ থেকে ডিজেল রফতানি বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে পরে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতেই আবার বাংলাদেশে ডিজেল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে তৈরি করা হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব পাইপলাইন প্রকল্প। এই প্রকল্প দুই দেশের অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা সম্ভব হয়।বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছে সেখানকার সরকার। তবে উদ্বেগ শুধু জ্বালানি নিয়েই নয়। খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের সাহায্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।এই পরিস্থিতির মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের পর ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে বলে খবর। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের প্রায় কুড়ি শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশের তেলের ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ এখন সমুদ্রে অপেক্ষা করে রয়েছে।

মার্চ ১০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

লক্ষ্যের লক্ষ্যপূরণ অধরাই, অল ইংল্যান্ড শিরোপা হাতছাড়া

অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্বপ্ন এবারও অপূর্ণই থেকে গেল ভারতের। ফাইনালে উঠেও খেতাব জিততে পারলেন না ভারতের তরুণ শাটলার লক্ষ্য সেন। রবিবার (৯ মার্চ) পুরুষদের সিঙ্গলস ফাইনালে চাইনিজ তাইপেইয়ের লিন চুন ই-র কাছে হেরে যান তিনি। লক্ষ্যের লক্ষ্যপূরণ অধরাই থেকে গেল।প্রায় ৫৭ মিনিট ধরে লড়াই চলা এই ম্যাচে লক্ষ্য ১৫-২১ এবং ২০-২২ ব্যবধানে পরাজিত হন। ফলে গত ২৫ বছর ধরে অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের খেতাব জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হল। অন্যদিকে, এই জয়ের মাধ্যমে লিন চুনই প্রথম চাইনিজ তাইপেই শাটলার হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের খেতাব জিতলেন।উল্লেখ্য, চার বছর আগে অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্স-আপ হয়েছিলেন লক্ষ্য সেন। চলতি বছর আবারও ফাইনালে উঠে সেই আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ এসেছিল। আলমোড়ার ২৪ বছরের এই শাটলার ফাইনালেও লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা অধরাই থেকে যায়।এই টুর্নামেন্টে ফাইনালে ওঠার পথে লক্ষ্য সেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। তিনি বিশ্বের এক নম্বর শাটলার শি ইউ কি এবং বিশ্ব তালিকার ছয় নম্বরে থাকা লি শি ফেংকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছান। সেমিফাইনালে কানাডার ভিক্টর লেইয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে পায়ের চোট নিয়েও ৯৭ মিনিট লড়াই করে জয় তুলে নেন তিনি।ভারতের ইতিহাসে অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষদের সিঙ্গলসে এখনও পর্যন্ত মাত্র দুই ভারতীয় শাটলার খেতাব জিতেছেন, প্রকাশ পাড়ুকোন (১৯৮০) এবং পুলেল্লা গোপীচাঁদ (২০০১)। এছাড়া প্রকাশ নাথ (১৯৪৭) এবং সাইনা নেহওয়াল (২০১৫) ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেননি।এবার লক্ষ্য সেন ফাইনালে উঠলেও শেষ হাসি হাসতে পারলেন না। ফলে অল ইংল্যান্ডে ভারতের শিরোপা জয়ের অপেক্ষা এখনও অব্যাহত রইল।

মার্চ ১০, ২০২৬
কলকাতা

“একুশের মতো পরিস্থিতি আর নয়”—বাংলায় ভোট ঘিরে কড়া বার্তা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি আর যেন বাংলায় না ফিরে আসে, সেই বার্তাই বারবার দিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। ছাব্বিশের নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও চাপমুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বাংলায় দুদিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ভোটে কোনও ধরনের হিংসা বা ভয় দেখানো বরদাস্ত করা হবে না। ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষা করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।সোমবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সেই বৈঠকে ভোট কত দফায় হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফে এক বা দুই দফায় ভোট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। জ্ঞানেশ কুমার জানান, রাজনৈতিক দলগুলির মতামত নেওয়া হয়েছে এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই ভোটের দফা নির্ধারণ করা হবে। দিল্লিতে ফিরে কমিশন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।মুখ্য নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করে বলেন, এবারের ভোটে কোনওভাবেই হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, ভোট যেন সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত ও ভয়মুক্ত পরিবেশে হয়, সেই বিষয়ে কমিশন বিশেষ নজর দেবে। ভোটারদের উপর চাপ সৃষ্টি করার ঘটনাও কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি বলেন, অতীতে ভোটের আগে এবং ভোটের পরে যে ধরনের হিংসার ঘটনা দেখা গিয়েছিল, কমিশন আশা করছে এবারে সেই পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না। যদি কারও বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ওঠে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।সোমবার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সেখানে রাজ্যের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের কড়া বার্তা দেন তিনি। কোথাও কোনও অশান্তি বা আইনশৃঙ্খলার সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। নির্দেশ না মানলে শুধু পদ থেকে সরানোই নয়, বিভাগীয় তদন্তের মুখেও পড়তে হতে পারে বলে জানিয়ে দেন।এবারের নির্বাচনে প্রতিটি বুথে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। সব বুথেই ওয়েব সম্প্রচারের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। ভোট দিতে যাওয়ার সময় বুথের বাইরে মোবাইল ফোন জমা রেখে তবেই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে ভোটারদের। ভোটযন্ত্রে প্রার্থীদের রঙিন ছবি দেখানোর ব্যবস্থাও থাকবে। কোনও প্রার্থী চাইলে ভোটের সাত দিনের মধ্যে ভোটযন্ত্র পরীক্ষা করার সুযোগও দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বুথে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র খোলা হবে, যাতে ভোটাররা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও সাহায্য পেতে পারেন।

মার্চ ১০, ২০২৬
কলকাতা

ষাট লক্ষ ভোটারের ভাগ্য ঝুলে! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উত্তরে বাড়ল ধোঁয়াশা

এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ষাট লক্ষ। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে ইতিমধ্যেই দশ লক্ষ ভোটারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ভোটের আগে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিবেচনাধীন ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে এড়িয়ে গেলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।এর আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও বিবেচনাধীন ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনও দিশা দিতে পারেননি। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানেশ কুমার জানান, বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি পরীক্ষা করে দেখার কাজ করছেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং সেখানে জানিয়েছেন যে দশ লক্ষ ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে বাকি পঞ্চাশ লক্ষ ভোটারের বিষয় নিয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা উচিত।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত আটাশ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকার পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে। প্রার্থীদের মনোনয়নের আগের দিন পর্যন্ত এই তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে বলে নির্দেশ রয়েছে। ফলে বিবেচনাধীন ভোটারদের অনেককেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে তাঁদের ভোটাধিকার রয়েছে কি না তা জানার জন্য।এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বিবেচনাধীন ভোটারদের বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোটের ঘোষণা করা উচিত নয়। তবে নির্বাচন কমিশন আগামী সপ্তাহেই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে পারে বলে জল্পনা চলছে। অর্থাৎ ভোটের সময় একেবারেই সামনে চলে এসেছে। হাতে সময় খুবই কম। এখনও পর্যন্ত মাত্র দশ লক্ষ ভোটারের নথি পরীক্ষা শেষ হয়েছে, বাকি বিপুল সংখ্যক ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি বাকি। এত কম সময়ে এই বিশাল কাজ শেষ করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকেও এখনও স্পষ্ট কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে বিবেচনাধীন লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঝুলে রইল।

মার্চ ১০, ২০২৬
দেশ

ভোটার তালিকা বিতর্কে বড় মন্তব্য! “একজনও বৈধ ভোটার বাদ যাবে না” বলল সুপ্রিম কোর্ট

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আগাম পিটিশন দাখিল হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ধরনের আগাম আবেদন ভুল বার্তা দিতে পারে। আদালতের মতে, এতে মনে হতে পারে যে আবেদনকারীরা বিচারব্যবস্থার উপর ভরসা রাখতে পারছেন না। প্রধান বিচারপতি মেনকা গুরুস্বামীকে জানান, আগাম পিটিশনের মাধ্যমে এমন বার্তা যাচ্ছে যে সিস্টেমের উপর আস্থা নেই। তাই তিনি আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরামর্শও দেন। একই সঙ্গে আদালত আশ্বাস দেয়, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়বে না।এসআইআর সংক্রান্ত মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এর মধ্যেই সোমবার আবার আদালতের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। আগের দিন মেনকা গুরুস্বামী অভিযোগ করেছিলেন, অনেক ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং তাঁদের নথিও গ্রহণ করা হয়নি। তিনি জানান, যাঁরা আগে ভোট দিয়েছেন তাঁদের নথিও এখন গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।এই প্রসঙ্গেই মঙ্গলবার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যেই প্রায় দশ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কোনও প্রশ্নের মুখে ফেলবেন না। তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছেন। যাঁরা প্রকৃত ভোটার, তাঁদের অবশ্যই তালিকায় যুক্ত করা হবে বলে আদালত জানায়।রাজ্যের নতুন আবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এই পিটিশন আগাম করা হয়েছে এবং এখনই তার প্রয়োজন ছিল না। তিনি মেনকা গুরুস্বামীকে আবেদন প্রত্যাহারের পরামর্শ দেন এবং বলেন, ভোট ঘোষণার আগেই এই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আদালত এও জানায়, প্রয়োজন হলে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত অবমাননার নোটিসও জারি করা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আদালত সব পক্ষকেই নজরে রাখছে বলে মন্তব্য করে বেঞ্চ।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা অমীমাংসিত ভোটারদের তালিকা পরীক্ষা করে দেখছেন। এদিন আদালত নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে এই কাজে সবরকম সাহায্য করতে হবে। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের যখন লগইন পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে, তখনই নির্বাচন কমিশনকে তা দ্রুত ব্যবস্থা করে দিতে হবে বলে জানায় আদালত।অমীমাংসিত তালিকার তথ্য পরীক্ষা শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি আদালত জানিয়েছে, এই বিষয় দেখভালের জন্য একটি ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। সেখানে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে রাখা হবে এবং একাধিক বিচারপতি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন। নির্বাচন কমিশন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে আদালত জানিয়েছে।

মার্চ ১০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal